ঈদের পর ফাকাঁ হয়ে যাওয়া বাড়ি
আশা করছি সবাই ভালো আছেন। দেখতে দেখতে ঈদের সময়টাও চলে গেল! ঈদ আসলে পরিবারের সবাই একসাথে থাকা হয়, সবার সাথে থাকা হয়। শুধুমাত্র ঈদকে উপলক্ষ করে বাড়ি ভরে উঠে। বাড়িতে যেন আবার প্রাণ ফিরে পায়। মায়ের রান্নার ব্যস্ততা, ছোটদের দৌড়ঝাপ, বড়দের গল্প সবমিলিয়ে ঈদের সময়ে বাড়িতে অন্যরকম একটা পরিবেশ কাজ করে। বাড়িতে ছোটরা থাকলে বাড়িতে একটা ব্যস্ততা কাজ করে।
খেয়াল করলে দেখবেন বাড়িতে ছোট বাচ্চাদের নিয়েই বড়রা পরে থাকে। কারণ ছোটরা থাকলে সবসময় মজা করে। ব্যাপারগুলো ভালোই লাগে। বাড়িটাকে সবসময় তোরজোরের মধ্যে রাখে। ঈদের আগে থেকেই আমার আপুরা এখানে। আমার বোনের মেয়ে মাওয়া সবসময় বাড়িটাকে ব্যস্ত রেখেছে। নানু বাড়িতে আসার জন্য সে কতো কান্না করেছিল। ঈদ করার পর আবারো সেই ব্যস্ত শহরে পারি দিতে হবে। কারণ ঈদের পরে আমার ভাগ্নীর পরীক্ষা। নানু বাড়ি এসে পড়ালেখা কিছু করা হয়নি।
আমার মা তার নাতিকে এতোদিন ভালেই আদর আপ্যায়ন করেছে। কতোশত দুষ্টুমি করেছে সব মেনে নিয়েছে। আমার ভাগ্নী আমার সাথেও কতো দুষ্টুমি করেছে। আসলে ছোটরা থাকলে ওদেরকে খোচাতে ভালোই লাগে, হাহা। দেখবেন পরিবারের বড়রাও চাই তারা দুষ্টুমি করুক। এমন কথা বলে যেন তারা রাগ করে ফেলে।
আমার ভার্সিটি বন্ধ হওয়ার পর আমি বাড়িতে আসতে পারিনি। ব্যস্ততার কারণে ঈদের আগে আসতে হয়েছে। বাড়িতে সবাই ছিল। এসে আমিও যুক্ত হলাম সবার সাথে। তবে ঈদের সময় যে মুহূর্তটা হয় ঈদের পরে সেটা আর হয় না। সবাই নিজ গন্তব্যে পারি জমায়। আমারও সময় হয়েছে যাবার। চলে যেতে হবে ঢাকায়। ব্যস্ততার কারণে আর বাড়িতে থাকা হবে না। বাড়িতে শুধুমাত্র মা বাবা ই থেকে যাবে।
মা বাবারা সবচেয়ে বেশি খুশি হয় যখন তাদের সব সন্তান একসাথে হয়। মূলত ঈদ উপলক্ষ করেই আমরা ভাইবোনরা একসাথে হয়। মাঝে মাঝে আপু দূরে থাকার কারণপ আসতে পারেনা। তবে আমি বাড়িতে ঈদ করার চেষ্টা করি। তবে ঈদের পরে মা বাবাদের একটা আক্ষেপ থেকেই যায়। কারণ সবাইকে চলে যেতে হয় নিজ গন্তব্যে। আর এটাই হলো জীবনের বাস্তবতা।
