গ্রামের পাঠশালার পুরনো দিনের শিক্ষা ব্যবস্থা
Image Created by OpenAI
একসময় গ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যম ছিল পাঠশালা। আজকের স্মার্ট ক্লাসরুম, প্রজেক্টর, অনলাইন শিক্ষা, এসবের বহু আগে গ্রামের ছেলেমেয়েরা গাছতলায় বা খড়ের ছাউনি দেওয়া ছোট ঘরে বসেই জীবনের প্রথম পাঠ শিখত। সেই শিক্ষা শুধু বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, ছিল জীবন গড়ার শিক্ষাও। পুরনো দিনের গ্রামের পাঠশালা সাধারণত কোনো কাঁচা ঘর, মন্দিরের বারান্দা বা বিশাল বটগাছের নিচে বসত। এখনকার মতো কোনো বেঞ্চ বা ডেস্কের ব্যবস্থা ছিল না। ছাত্ররা মাটিতে পাটি বা চট বিছিয়ে বসত। আমাদের সময়ও পাঠশালার একইরকম ব্যবস্থা ছিল। পাঠশালার পরিবেশ থাকতো একদম শান্ত এবং নিরিবিলি।
শিক্ষককে বলা হতো গুরু বা মাস্টারমশাই। তবে তিনি শুধু শিক্ষকই ছিলেন না, ছিলেন অভিভাবক, শাসক এবং পথপ্রদর্শক। তখন ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষকদের অত্যন্ত সম্মান করত। গুরুজনের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলত এবং ভুল করলে শাস্তি পেত। কিন্তু তাতে ছিল এক অনাবিল মমতা। শিক্ষা শুধু পরীক্ষায় পাস করার উপায় ছিলো না, তখন ছিল চরিত্র গঠনের মাধ্যমও। একসময় আজকের মতো খাতা-কলম সবার কাছে ছিল না। তাই ব্যবহার হতো একদম সহজলভ্য জিনিস। যেমন- সিলেট, এটাতে চক দিয়ে বারবার লিখে আবার মুছে লেখা যেতো। পাঠশালাতে সিলেট সবথেকে বেশিই ব্যবহার হতো। তখন বই কম ছিল, তাই মুখস্থ করা ছিল প্রধান পদ্ধতি। সবাই একসাথে জোরে জোরে পড়ত, যাকে বলা হতো “স্বরপাঠ”। উদাহরণস্বরূপ- “এক একে এক, এক দুয়ে দুই…”।

Good job
0.00 SBD,
2.32 STEEM,
2.32 SP