যন্ত্রের মতো চলতে চলতে আমাদের আবেগ কমে যাচ্ছে
অর্থাৎ, আসলে এখানে আমি একটা কথা বলতে চাই, অবশ্যই সেটা হলো, একটা কথায় মানুষ বলে যে আবেগের কোনো প্রয়োজন নেই, বিবেক দিয়ে চিন্তা করতে হয়।
কিন্তু আপনি নিজেই একটু ভেবে বলুন তো, সব সময় কি আবেগের কথা না শুনে বিবেকের কথা শোনা যায়? আমার মতে যায় না। কারণ, অনেক সময় আমাদের আবেগের কথাও শুনতে হয়, অনেক সময় আমাদের আবেগটাকেও দেখতে হয়, শুনতে হয়। কারণ, ওই আবেগ আমাদের মনকে পরিচালিত করে। আমাদের মনের অনেক বড় একটি অংশ এই আবেগ।
কিন্তু বর্তমানে আমরা এতটাই যান্ত্রিক জীবনযাপন করছি যে, আমাদের জীবন যেন অনেকটা পাথরের মতো হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, সেখানে আসলে রোদ উঠে, সূর্য উঠে, কিন্তু কখনো নরম হয় না, কখনো কোনো ফুল ফোটে না।
কিন্তু মানুষের এমন হওয়ার কথা ছিল না। মানুষের হওয়া উচিত ছিল অনেক বেশি আবেগপ্রবণ। মানুষের হওয়া উচিত ছিল, বিবেকের পাশাপাশি আবেগের দংশ নেওয়া। আসলে ধ্বংসিত হওয়ার। কিন্তু আমরা ধীরে ধীরে নিজেকে অনেক শক্ত করে নিয়েছি।
যদিও তার মধ্যে অনেক বড় একটি ব্যাপার রয়েছে, এবং সেটা হলো দিনে দিনে মানুষ অনেক বেশি অবহেলিত হয়েছে, দিনে দিনে মানুষ অনেক বেশি বারবার আসলে কষ্ট পেয়েছে, ধোঁকা খেয়েছে। যার কারণে একটা সময় গিয়ে মানুষ অনেকটাই শক্ত হয়ে গিয়েছে। কারণ, একটা সময় গিয়ে আসলে আমরা যখন অনেক বেশি প্রতারিত হই, তখন আসলে আমরা নিজের মধ্যেই একটা বদল আনার চেষ্টা করি এবং বদল এসেও যায়।
সেটা হলো, আসলে আমরা নিজেরাই অনেক বেশি শক্ত হয়ে যাই এবং আমাদের আবেগ কাজ করা বন্ধ করে দেয়। হয়তোবা সেটাই হয়েছে। তবে সত্যিই যেন আমাদের আবেগ বর্তমানে অনেকটাই শূন্য। অর্থাৎ, আমরা যেন এমন একটা যান্ত্রিক জীবন যাপন করছি।

